এসএসসির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের! স্বস্তি পেলেন যোগ্য শিক্ষকরা, স্বস্তিতে রাজ্য সরকারও

BT NEWS BANGLA 0

 

যোগ্য শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট ৷ স্কুলগুলিতে কর্মীর অভাবের কারণ দর্শিয়ে শীর্ষ আদালতে 'যোগ্য' শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ অন্তত 9 মাস বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছিল রাজ্য ৷ সেই আবেদনে 'সুপ্রিম' সাড়া মিলল ৷ 9 মাস না-হলেও 31 ডিসেম্বরের পরিবর্তে 2026 সালের 31 অগস্ট পর্যন্ত অর্থাৎ 8 মাস নিয়োগের সময়সীমা বৃদ্ধিতে সম্মতি দিল শীর্ষ আদালত ৷

Whatsapp Group  

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে ৷ এনিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ৷ তিনি লিখেছেন, "নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিলেন সুপ্রিম কোর্ট ৷ সর্বোচ্চ আদালত নিয়োগ প্রক্রিয়া 31 অগস্টের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যা আমাদের রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঠিক দিক নির্দেশের প্রতি আস্থার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ৷ এই সময়সীমার মধ্যে আগের শিক্ষকরা আগের মতোই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন ৷ বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চের এই নির্দেশে পরিষ্কার ওয়েস্ট বেঙ্গল সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতার সঠিক পথেই এগোচ্ছেন ৷" 

 


চলতি বছরের 3 এপ্রিল 2016 সালের এসএসসি'র পুরো প্যানেল বাতিল করে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৷ চাকরি হারান 26 হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী ৷ বেঞ্চ নির্দেশ দেয় চলতি বছরের 31 ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে ৷ শিক্ষাকর্মীদের প্যানেল সম্পূর্ণ বাতিল হয় ৷ কিন্তু চিহ্নিত 'যোগ্য' শিক্ষকরা 31 ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি করতে পারবেন ৷
 

সুপ্রিম নির্দেশ মতো ফের নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে স্কুল সার্ভিস কমিশন ৷ ইতিমধ্যে সেপ্টেম্বরে দু'দফায় পরীক্ষা হয়েছে ৷ তার ফলপ্রকাশ হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে ৷ কিন্তু কর্মীর অভাবের কারণে সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অর্থাৎ 31 ডিসেম্বরের মধ্যে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক থেকে শিক্ষাকর্মী নিয়োগ সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয় বলে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানায় রাজ্য ৷ এই অবস্থায় আনটেন্টেড বা 'যোগ্য' শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ অন্তত 31 অগস্ট পর্যন্ত বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয় ৷ এই মামলায় এদিন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ রাজ্যের আবেদনে সম্মতি জানিয়েছে ৷

রাজ্যের আবেদন

রাজ্যের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতে আবেদন করা হয়, রাজ্যের স্কুলগুলিতে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা আসন্ন ৷ পাশাপাশি স্কুলগুলিতে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষা, খাতা দেখার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর প্রয়োজন ৷ এই পরিস্থিতিতে 2025 সালের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই যদি কর্মরত যোগ্যদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে ৷

গত 8 ডিসেম্বর মধ্যশিক্ষা পর্ষদ স্কুল সার্ভিস কমিশনকে একটি চিঠিতে জানায় 2026 সালের শিক্ষাবর্ষ আর কিছু দিনের মধ্যে শুরু হবে ৷ তারপর 2 ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যের স্কুলগুলিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে ৷

এদিকে স্কুল সার্ভিস কমিশন নবম-দশমের যে পরীক্ষা নিয়েছে, সেই পরীক্ষার চূড়ান্ত মেধা তালিকা 26 মার্চ 2026 সালের প্রকাশ করা হতে পারে ৷ তারপর 30 মার্চ প্রথম পর্বের কাউন্সেলিং শুরু হবে ৷ 31 মে-র মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে স্কুল সার্ভিস কমিশন ৷

Whatsapp Group  

রাজ্যে আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রায় 11 লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে ৷ রাজ্যের 2 হাজার 682টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে ৷ এর জন্য প্রয়োজন এক লক্ষ পরিদর্শক এবং 55 হাজার পরীক্ষক ও সাত হাজার স্ক্রুটিনি শিক্ষক ৷ অন্তত 1 হাজার 400 প্রধান শিক্ষক ৷ মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা রয়েছে ৷ এই বিশাল যজ্ঞকাণ্ডে পর্যাপ্ত শিক্ষক না-থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে ৷ তাই আপাতত অন্তত ন'মাসের জন্য চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য ৷ সেই আবেদন মতো আট মাস অর্থাৎ 31 অগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ